কারক ও বিভক্তি আলোচনা

কারক:- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।

এটি ছয় প্রকার: (i) কর্তৃ (ii) কর্ম (iii) করণ (iv) সম্প্রদান বা সমর্পণ (v) অপাদান (vi) অধিকরণ কারক

বিভক্তি ও কারকের সম্পর্ক:

বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করার জন্য নামশব্দের শেষে যেসব বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে।

বিভক্তিচিহ্নসমূহ
প্রথমা (শূন্য)০, অ
দ্বিতীয়াকে, রে
তৃতীয়াদ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
চতুর্থীকে, রে (সম্প্রদান কারকে)
পঞ্চমীহতে, থেকে, চেয়ে
ষষ্ঠীর, এর
সপ্তমীএ, য়, তে, এতে

কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের উদাহরণ:

নিচে প্রতিটি কারকে কীভাবে বিভক্তি যুক্ত হয় তা দেখানো হলো:

  • কর্তৃকারক: রহিম বই পড়ে। (রহিম + ০ = প্রথমা/শূন্য বিভক্তি)
  • কর্মকারক: ডাক্তার ডাকো। (ডাক্তার + ০ = শূন্য বিভক্তি) অথবা আমারে তুমি রক্ষা করো। (আমার + এ = সপ্তমী বিভক্তি)
  • করণ কারক: কলমে কায়স্থ চিনি। (কলম + এ = সপ্তমী বিভক্তি)
  • সম্প্রদান কারক: ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও। (ভিক্ষুক + কে = চতুর্থী বিভক্তি)
  • অপাদান কারক: তিল থেকে তৈল হয়। (তিল + থেকে = পঞ্চমী বিভক্তি)
  • অধিকরণ কারক: তিলে তৈল আছে। (তিল + এ = সপ্তমী বিভক্তি)

কারক চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া:

একটি বাক্যের প্রত্যেকটি শব্দই তার বন্ধন বা গঠন অনুসারে বিভিন্ন কারক হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে শব্দটির নিচে দাগ দেওয়া থাকবে সেই শব্দটির কোন কারক তা নির্ণয় করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি ঐ শব্দের বিভক্তি থাকে তাহলে তাও বলতে বলা থাকে। চলুন এবার আমরা ধাপে ধাপে কারক নির্ণয়ের প্রক্রিয়া আলোচনা করি।

কর্তৃকারক:

অর্থাৎ কর্তাই প্রধান। কর্তা হলো যে কাজ করে। অর্থাৎ বাক্য যদি সরাসরি কর্তা কর্তৃক কাজ সম্পাদন হয় তাহলে ঐ কর্তাই হলো কর্তৃকারক।

যেমন: (ক) রহিম বল খেলে। (খ) পুলিশ চোর ধরেছে।

এখানে উভয় বাক্যে রহিম এবং পুলিশ বাক্য সংশ্লিষ্ট কাজটি নিজেই সম্পাদন করছে তাই তারা কর্তৃকারক। (রহিম + ০ = প্রথমা বিভক্তি)

সহজ উপায়ে: ক্রিয়াপদকে 'কে' বা 'কারা' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়। [কিন্তু এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যেন কর্তা নিজেই কাজটি করে]

কর্মকারক:

কর্তা যাকে আশ্রয় করে কাজ সম্পন্ন করে। ক্রিয়াপদকে 'কি' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

যেমন: রহিম বল খেলেছে। রৌনাকে কাপড় দাও।

এক্ষেত্রে 'কি খেলেছে?', 'কাকে কাপড় দাও?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর 'বল' ও 'রৌনাকে' পাওয়া যায় তাই এখানে বল ও রৌনাকে কর্মকারক।

[ক্রিয়াপদকে সহজভাবে 'কি' অথবা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করা হয়]

করণ কারক:

যে উপকরণ দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদন করা হয়। এক্ষেত্রে ক্রিয়াপদকে 'কিসের দ্বারা' বা 'কি উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা করণ কারক।

যেমন: রহিম কলম দ্বারা লেখে। চাবুক মার।
কি দ্বারা ঘোড়াকে মার? উত্তর: চাবুক। [এখানে মনে হতে পারে যে, এখানে তো শুধু 'কি' এর মাধ্যমে প্রশ্ন করা যায়। ঘোড়াকে কি মার? আসলে ঘোড়াকে কিছু মারা যায় না তবে কিছু দ্বারা মারা যায়]

সম্প্রদান:

যাকে নিঃস্বত্ব দান করা হয়। অর্থাৎ কোন কিছু নিঃস্বত্ব দান করা হলে যাকে দান করা হচ্ছে তাকে সম্প্রদান বা সমর্পণ কারক বলে।

যেমন: ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।

অপাদান:

যা হতে বা যে উৎস থেকে কোন কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, দূরীভূত, রক্ষিত, বিরত হয় বা যাকে ভীত হয় তাকে বা সেই উৎসকে অপাদান কারক বলে। ক্রিয়াপদকে 'কি হতে', 'কোথা হতে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন: তিল হতে তৈল হয়। মেঘ দিয়ে বৃষ্টি পড়ে।

অধিকরণ:

ক্রিয়া সম্পাদনের সময় বা স্থানকে বোঝায়। ক্রিয়াপদকে 'কখন', 'কোথায়', 'কিসে' দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাকে অধিকরণ কারক বলা হয়।

উদাহরণ যেমন: আমি গতকাল ঢাকা গিয়েছিলাম। এ দেহে প্রাণ নেই।

কারক ও বিভক্তি পরীক্ষা

ফলাফল: আপনার প্রাপ্ত নম্বর ২৫ এর মধ্যে 0

পরামর্শ: অসাধারণ! আপনার প্রস্তুতি খুব ভালো। নিয়মিত চর্চা বজায় রাখুন।

পরামর্শ: ভালো চেষ্টা করেছেন। আরও কিছুটা পড়া উচিত।

পরামর্শ: আপনার আরও মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। আলোচনা অংশটি আবার পড়ুন।